সিনেমা

জনপ্রিয়তার নিরিখে বলিউডকে ছাপিয়ে দক্ষিণী সিনেমা গুলি – জেনে নিন পেছনের কারণ গুলি কি কি

একের পর এক ধামাকাদার ছবির মাধ্যমে বক্স অফিস হিট। দর্শকের মুখে প্রশংসায় ফুলঝুরি। ভারতীয় সিনেমা ফের হাজার কোটি টাকার মুখ দেখছে এইসব দক্ষিণী সিনেমা গুলির দৌলতেই। শুরুটা হয়েছিল প্রভাসের ‘ বাহুবলী’ দিয়ে তারপর সম্প্রতি রামচরণের ‘আর আর আর’ একাধারে বলিউড থেকে হলিউডকে জোর কদমে টক্কর দিতে প্রস্তুত।

দক্ষিণী সিনেমার বিপুল মাত্রায় জনপ্রিয়তার কারণে বেশ চাপে পড়তে হচ্ছে বলিউড ইন্ডাস্ট্রিকে। বক্স অফিসে লাভের অঙ্কটা দিনের পর দিন হ্রাস পাচ্ছে ফলে চিন্তার ভাঁজ বলিউড জগতে। কিন্তু এর পেছনের রহস্যটা কি? জানতে হলে আজকের প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ পড়তে হবে। বলিউডের পিছিয়ে পড়ার পেছনে সম্ভাব্য ৫ টি কারণ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

আরও পড়ুন: নায়ক না হয়েই, পার্শ্বচরিত্রের অভিনয়ে দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন ছোট পর্দার এই ৫ অভিনেতা

১) কাহিনীর শিথিলতা – বলিউডের ক্ষেত্রে সিনেমার আধুনিকীকরণ সেইসঙ্গে সিনেমাটোগ্রাফির পরিবর্তন অনেকাংশে করলেও কাহিনীর দিকে কম নজর দেওয়া হয় আর ঠিক বিপরীত দেখা যায় দক্ষিণী সিনেমার ক্ষেত্রে। দক্ষিণী সিনেমা গুলির ক্ষেত্রে মূলত নায়ককে একজন বাস্তব মধ্যবিত্ত ছেলের প্রতিনিধির মত করে তুলে ধরা হয় যে কাহিনী অনেকটাই দর্শক টানতে সক্ষম হয়। অপরদিকে বলিউডের ক্ষেত্রে নায়কের প্রবেশ প্রথম থেকেই থাকে একজন ধনী হিসেবে, সেই প্রেক্ষাপটে বিচার করলে দক্ষিণী সিনেমার সাথে বলিউডের এক তারতম্য এসেই যাচ্ছে।

২) নবাগতদের স্থান না দেওয়া – বলিউডে মূলত কিছু ধরাবাঁধা নায়কের মাধ্যমেই সিনেমার জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। স্বজনপোষনের ব্যাপার প্রায় অনেকক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যায় সেকারণে নতুন মুখ প্রায় দেখা যায়না বললেই চলে। কিন্তু অপরদিকে দক্ষিণী সিনেমার জগতে আল্লু অর্জুন, প্রভাস, যশ, জুনিয়র এনটি আর, রামচরণ দের মতো নতুন পুরনো সমস্ত মুখই দেখা যায়। এইদিকে দক্ষিণী সিনেমা গুলি সুপারহিট হয়ে চলেছে।

৩) দক্ষিণের ছবির অনুকরন – বলিউডের ক্ষেত্রে বর্তমানে নিজস্বতা হারিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দক্ষিণী সিনেমা গুলির একেবারে হুবহু অনুকরণের মাধ্যমে রিমেক বানানো হচ্ছে যা দর্শকের সামনে বেশ সহজেই বোঝা সম্ভব হচ্ছে। ফলে দর্শকের আকর্ষণ ক্রমশ কমছে।

আরও পড়ুন: দেরিতে পৌঁছেও বিমান সংস্থার ওপর ক্ষোভ উগরে অবশেষে ক্ষমা চাইয়ে নিলেন টলি অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত!

৪) বিনা পয়সায় দক্ষিণী ছবি দেখার সুযোগ – দক্ষিণী ছবি গুলির ক্ষেত্রে একটি বিশেষ বাড়তি সুবিধা যা দর্শক পেয়ে থাকে ছবি মুক্তি পাওয়ার পরই প্রায় বহু চ্যানেলেই ডাবিং হিসেবে হিন্দিতে ছবিগুলি দেখার সুযোগ বাড়িতে বসেই পেয়ে থাকেন দর্শকরা অন্যদিকে বলিউডের ক্ষেত্রে ছবি মুক্তি পেলে দর্শকদের গাঁটের টাকা খসিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখতে হয় ফলে অনেকেই তা চাননা। আর যার ফলস্বরূপ দর্শকের আকর্ষণ কমে।

৫) দক্ষিণী ছবির আকর্ষণীয় কাহিনী বিন্যাস – দক্ষিণী সিনেমা গুলির ক্ষেত্রে বর্তমানে জনপ্রিয়তার বিষয় মাথায় রেখে ছবির কাহিনীর দিকে বেশ নজর রাখা হয়। যেখানে অ্যাকশন, সাথে থ্রিলার যোগে এক অন্যমাত্রায় পৌঁছয় সিনেমা। সেইদিকে বিচার করলে বলিউডের সিনেমার কাহিনী বিন্যাস বর্তমানে ততটাও দর্শকের মন জয় করতে পারছে না। ছবির মান উন্নত করার সাথে সাথে কাহিনীর নতুনত্ব এর কারণে দক্ষিণী সিনেমা জোর কদমে টক্কর দিচ্ছে বলিউড ইন্ডাস্ট্রিকে।

Related Articles

Back to top button