গসিপ

“রাসবিহারী মোড়ে একটা ম’দের দোকানে কোলা ফ্রি দিত, যারা ম’দ কিনতে আসতেন তাদের সেটা দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে বিক্রি করতাম” – সেখান থেকে আজকের জনপ্রিয় অভিনেতা আর তারপর বিধায়ক! জীবনে কঠোর পরিশ্রমে একের পর এক সাফল্য এনেছেন কাঞ্চন মল্লিক

টলিউডের অন্যতম এক জনপ্রিয় অভিনেতা হলেন কাঞ্চন মল্লিক। ইন্ডাস্ট্রিতে কোন গড ফাদার ছিল না তাঁর। নিজের দক্ষতায় নিজের সামর্থে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন এই অভিনেতা। তাঁকে শুধু একজন অভিনেতা বললে ভুল হবে ইন্ডাস্ট্রির এক বড় মাপের কৌতুক শিল্পীও তিনি। বর্তমানে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের একজন বিধায়কও বটে। ২০০২ সালে জিৎ অভিনীত সিনেমা “সাথী” র হাত ধরে টলিউডের পদার্পণ করেন এই অভিনেতা। আর তারপর থেকে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে নিজের নাম পাকাপোক্ত করে নিয়েছেন তিনি। অভিনেতাকে এই সিনেমার পর আর পিছন ঘুরে তাকাতে হয়নি। সাথীর পর করে গেছে একের পর এক সব হিট সিনেমায় অভিনয়। তবে শুধু বড় পর্দা বললে ভুল হবে। বর্তমানের অভিনয় জগতের বড় প্ল্যাটফর্ম ওটিটি প্লাটফর্ম। সেখানেও নিজের অভিনয়ের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন অভিনেতা।

সাথীর পর করেছেন একের পর এক সব হিট সিনেমা। এসব সিনেমাগুলিতে অভিনেতার চরিত্র টি কে মানুষ মনে ধরে রেখেছেন। এর মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সিনেমা যেখানে তার অভিনয় জনপ্রিয়তা শীর্ষে পৌঁছেছে সেগুলির নাম রইল। এই অভিনেতা অভিনীত জনপ্রিয় ছবি হলো “সাথী”, “সঙ্গী”, “রাজু আঙ্কেল”, “রঞ্জনা, আমি আর আসব না”, “যোদ্ধা”, “শুধু তোমারই জন্য” ,”ব্যোমকেশ ও চিড়িয়াখানা”, “ড্রাকুলা স্যার”, “টনিক”। বলাই বাহুল্য নিজের অভিনয় দক্ষতার যথেষ্ট প্রমাণ দিয়েছেন অভিনেতা। বাংলার তাবোড় তাবোড় অভিনেতাদের সাথে সমান দক্ষতায় অভিনয় করে গেছেন কাঞ্চন। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি কাজ করেছেন ওয়েব সিরিজের। “মন্টু পাইলট”, “মৌচাকের” মতো জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজেও বেশ প্রভাবশালী চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে অভিনেতাকে।

সম্প্রতি এক বিশিষ্ট সংবাদ মাধ্যমে ইন্টারভিউ দিতে দেখা গেল অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক আর অভিনেতা বিশ্বনাথ বসুকে। প্রসঙ্গত পেশাগত দিক থেকে তাঁরা দুজনেই অভিনেতা এবং কৌতুক শিল্পী। দুজনেই ইন্ডাস্ট্রিতে বেশ ভালই নাম করেছেন নিজেদের দক্ষতায়। এইদিন সেই বিশিষ্ট সংবাদ মাধ্যম কে ইন্টারভিউতে কাঞ্চন বললেন, “ক্লাস ১০-এ যখন পড়ি তখন বাবা সেরিব্রাল রেটিনা অ্যাটাকে দৃষ্টি হারিয়ে ফেলেন। সেসময় আমি বাড়ির বড় ছেলে হিসেবে আমাকেই সংসারের দায়িত্ব নিতে হয়। প্রথমে টিউশনি করি। এরপর একটা সেলস-এর কাজে ঢুকেছিলাম। বাড়ি-বাড়ি গিয়ে দোকানে – দোকানে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করতে হত। সেসময় দু-প্যাকেট সিগারেটের সাথে একটা লাইটার ফ্রি দিত, সেটা সেলস করতাম দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কস্টিউম পরে। এরপর রাসবিহারী মোড়ে একটা ম’দের দোকানে কোলা ফ্রি দিত। যারা ম’দ কিনতে আসতেন তাদের সেটা দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে বিক্রি করতাম”।

অভিনেতা আরো বলেন,”জীবনে এগিয়ে যেতে গেলে একাকেই লড়তে হয়, কেউ কোথাও থাকেনা। আমি একাই লোড়ে আজকে এই জায়গায় এসেছি। আমার বাবা প্রোডিউসার নয়, আমার বাবা থিয়েটারের ডিরেক্টর নয়, আমার বাবা হিরো নন। একই সাথে পাশে থাকা বিশ্বনাথের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আমারা থিয়েটারের কোনও স্টলওয়ার্ডের ছেলেও নই। তবু আমি মনে করি, আজ অবদি একলা লড়ে, একলা চেষ্টা করে যতটুকু করতে পেরেছি, যতটুকু মানুষ ভালোবেসেছে সেটা একমাত্র নিজের করা কাজের জন্যই।”

Related Articles

Back to top button