গসিপ

“আমি জানি না। সংযুক্তা বলল, আমি সমবেদনা অবধি জানাইনি! এটা হতে পারে?” – অভিষেকের জন্মদিনে মনের কথা প্রকাশ করে লিখলেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত

প্রয়াত অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায় এর জন্মদিনের দিনে অবশেষে সহকর্মীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছার সাথে সাথে এতদিন ধরে তাঁকে নিয়ে হওয়া নানা কটূক্তি এবং নানা সমালোচনা নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়াত অভিনেতার সাথে বেশ কয়েকটা জন্মদিন একসাথে কাটিয়েছেন, সেইসময় শুটিং চলাকালীন অভিনেতার জন্মদিন পড়লে একসাথে সবাই হৈ হুল্লোর করে মজা করে পালন করতেন জন্মদিন লিখেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ার এত আধিক্য সেইসময় ছিলনা কিন্তু নিজেদের মধ্যে উদযাপন হতো প্রতিটি উপলক্ষ। তিনি আরও বলেছেন, মানুষ চলে যাওয়ার পর এত চুলচেরা বিচার তাকে নিয়ে! কেন? এই কি আমাদের সংস্কৃতি? বুঝে উঠতে পারি না। যে মানুষ চলে যাচ্ছে, তার বাড়ির লোক ঠিক কেমন করে কাঁদছে? কতটা কাঁদছে? তাকে এখন কেমন দেখতে লাগছে,চলতেই থাকে। তার সঙ্গে যুক্ত হয় সেই চলে-যাওয়া মানুষকে নিয়ে কাটাছেঁড়া আর বিশ্লেষণ। সে কত ভাল কাজ করতে পারত? কিন্তু কেন পারেনি? কে বা কারা তাকে আটকে দিল? মানুষটার পরিবারও দু’দণ্ড শান্তি পায় না শোক অনুভবের।

আরও পড়ুন: ‘কিশমিশ’ ছবির দৌলতেই অস্কার পেলেন দেব! অভিনেতা পোস্ট শেয়ার করে জানালেন, জয়ের অনুভূতি

অভিনেতার প্রয়াণের পর একের পর কটূক্তি অভিনেত্রীর দিকে ছিল কিন্তু তিনি জানিয়েছেন তিনি এইসব খারাপ মন্তব্য থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টাই করে গিয়েছেন। তিনি নিজের এই বাংলা ছবির জগতে লড়াই এর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে জানিয়েছেন, ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে হলে যে লড়াই করতে হয় সেই লড়াই তিনি আজও করে চলেছেন। পরিশ্রম এবং ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস রেখে সবটা অর্জন করতে হয়। তিনিও তাই করে চলেছেন। কেউ এসে ইন্ডাস্ট্রিতে আর একজনের জীবন নষ্ট করে দিলো এইসব ভাবনা একেবারেই ভুল ভাবে মানুষের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয় ভুল বোঝানোর জন্য। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেছেন, একসময় অভিনয়ে তাঁর জীবনেও নেমে এসেছিল অন্ধকার সময়। বড়ো অভিনেতার সাথে কাজ করা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেইসময় তিনি একের পর এক নতুন নতুন পরিচালক এবং প্রযোজক দের সাথে কাজ করে গিয়েছেন। তবে প্রতিটি ছবি পরে তাঁর হিট হয়। কিন্তু এই খারাপ পরিস্থিতির জন্য তিনি কাউকে দোষ দেননি কোনোদিন।

তবে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে লিখেছেন, মিঠু চলে যাওয়ার পরে তাঁর নামে একেবারে মিথ্যে মিথ্যে রটনা হয়েছে। বহু জায়গায় প্রকাশিত হয়েছে, তিনি একবার খবর পর্যন্ত নেননি। তবে এই খবর যে একেবারে ভুল সেই কথা তিনি নিজে লিখেছেন, ও যে দিন চলে যায়, সেদিন আমি গুজরাটে ছবির শ্যুটে। খবর পেলাম আমাদের বহু দিনের রূপটান শিল্পী আজাদ মিঠুর বাড়িতেই তখন। আজাদই আমায় ফোন করে। আমি আজাদকে বলি মিঠুর স্ত্রীকে ফোনটা দিতে। ওর সঙ্গে বেশ কিছু ক্ষণ কথাও হয়।

আরও পড়ুন: ”যেটার জন্য ডিসিশনটা নিয়েছিলাম সেই জিনিসটাই যখন থাকলো না জীবনে তখন আমি বুঝতে পারলাম লাইফ ইজ ভেরি আনপ্রেডিক্টেবল” – দেবের সাথে সম্পর্ক নিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন শুভশ্রী

এমনকি, ওর স্ত্রী সংযুক্তাই আমায় বলেছিল যে, শেষ দিনে মিঠু শ্যুট করতে যেতে চায়নি। এবং সংযুক্তাও ওকে বারণ করেছিল শ্যুটে যেতে। কিন্তু তা সত্ত্বেও কাজের দায়িত্ব তো এড়ানো যায় না। তারপর অভিনেত্রী আজাদকেই বলেছিল একটি মালা তাঁর নামে দিয়ে দিতে। কিন্তু অভিনেতার স্ত্রী সংযুক্তা সংবাদমাধ্যমের সামনে জানিয়েছেন, কেউ সমবেদনা জানাননি। এর কারণ অভিনেত্রী বুঝে উঠতে পারেননি। অভিনেতার জন্মদিনে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি একটাই কথা বলতে চেয়েছেন, মৃত্যুর পর মানুষ এভাবে সমালোচনার ঝুলি নিয়ে বসে পড়লো কেনো? যিনি চলে গিয়েছেন তিনি তাঁর কাজ দিয়েই আজীবন বেঁচে থাকবেন মানুষের মনে।

Related Articles

Back to top button