Success Stories

সংসার চলে ভাইয়ের রিকশা চালানো আর মায়ের চুড়ি বিক্রির ওপর নির্ভর করে, মেয়ে করে দেখলেন সিভিল সার্ভিস ক্র্যাক!

মনের প্রবল ইচ্ছা আর জেদের বশে যে অসাধ্য সাধন করা যায় তাই করে দেখিয়েছে বর্তমানে ডেপুটি কালেক্টর ওয়াসিমা শেখ। তাঁর জীবনে শত প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সফলতা অর্জনকে নিয়েই আজকের এই গল্প। সময়ের সাথে সাথে সমাজে পরিবর্তনের ছোঁয়া এলেও এখনও বহু স্থান রয়ে গেছে যেখানে মেয়েদের বাড়ির বাইরে পর্যন্ত পা রাখার স্বাধীনতা দেওয়া হয়না। মেয়েদের জন্ম কেবল বিয়ে করে সংসার করার জন্য এমনটাই অনেক ক্ষেত্রে মনে করা হলেও ওয়াসিমা কাজে করে দেখিয়ে দিয়েছে জীবনে সফলতা অর্জনে কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনা যদি মনের জোর থাকে।

আরও পড়ুন: বলিউড কিং শাহরুখ খানের পুত্র আরিয়ান খান বহুদিন আগেই মাদক কান্ড থেকে রেহাই পেয়েছিলেন, এবার প্রয়াত হলেনা মাদক কাণ্ডের অন্যতম সাক্ষী প্রভাকর

২০১৯ এর মহারাষ্ট্রের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় মেয়েদের মধ্যে ওয়াসিমা রাজ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। মহারাষ্ট্রের নান্দের নামক একটি জেলার বাসিন্দা ওয়াসিমা শেখ , জীবনযুদ্ধে জয়ী হয়ে সকলের কাছে এক আদর্শ স্থাপন করেছে। সমাজের অন্যান্য নারীরাও তাঁকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এগিয়ে যেতে পারবে জীবনে সব বাধা দূর করে। দারিদ্রতা বা আরও নানা প্রতিবন্ধকতায় পড়ে যাঁরা মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেন তাদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ওয়াসিমা শেখ। তিনি তাঁর এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যম হিসেবে মারাঠি কেই নির্বাচন করে নিয়েছিলেন। আর সেই পথে এগিয়ে আজ তিনি নির্বাচিত হয়েছেন মহারাষ্ট্রে ডেপুটি কালেক্টর বা ডেপুটি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদের জন্য। বর্তমানে তাঁর বাকি দুই বোনও দিদির দেখানো রাস্তাই অনুসরণ করছে।

তবে আজ সাফল্যের মুখ দেখলেও যাত্রাপথ মোটেই ততোটা সুগম ছিলনা, অতীতের কথা স্মরণ করে বলেছেন ওয়াসিমা। বাড়িতে ছিল চার বোন ও দুই ভাই এবং মা বাবা। বাবা মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার কারণে সংসার চালানোর সমস্ত দায়িত্বভার ছিল মায়ের ওপর। ফলে কোনরকমে বাড়ি বাড়ি চুড়ি বিক্রি করে কষ্টেসৃষ্টে চলত সংসার।

আরও পড়ুন: ‘একরাশ পজেটিভ এনার্জি নিয়ে এসেছে আমাদের বাড়িতে, এত মাটির মানুষ’! বৌদিকে নিয়ে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন ভিকির ভাই সানি

নিত্যদিন অভাব অনটনের সংসারে তার ভাই একটি বড়ো হতেই সংসারের দায়িত্ব নিয়ে নেয়। পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে ই রিক্সা চালাতে শুরু করে ছোট ভাই। মা ও ভাইয়ের উপার্জনের টাকাতেই চলত সংসার। ওয়াসিমা দশম শ্রেণী পর্যন্ত গ্রামে পড়াশোনা করলেও একাদশ শ্রেণীতে বাইরে যেতে হয় তাকে।

প্রতিদিন প্রায় ৬ কিমি রাস্তা হেঁটে যাতায়াত করতে হতো তাকে। দ্বাদশ শ্রেণী শেষ করে মহারাষ্ট্র ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি পাস করে ওয়াসিমা। বিপিএড ডিগ্রীও করেছিল শিক্ষকতার আশায়।

যে গ্রামে ওয়াসিমার বাস ছিল কেউই সেখানে উচ্চশিক্ষা লাভ করেনি। তাঁর একমাত্র মা ও ভাইয়ের জন্য এই অসাধ্য সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি। কিছুদিন পরেই সে নিজে কিছু পরিবর্তন আনার জন্য সিভিল সার্ভিসে যাওয়ার জন্য দৃড়প্রতিজ্ঞ হয়ে শুরু করে যাত্রা।

২০১৬ তে স্নাতকের শেষে প্রস্তুতি শুরু হলে গ্রামে সুযোগ না থাকায় বড়ো দাদা তাকে নিয়ে আসে পুনেতে। তারপরেই সে পরীক্ষার মাধ্যমে এত বড়ো সাফল্য অর্জন করে। যদিও নিজের সাফল্যের পেছনে একমাত্র মা , ভাই ও দাদার অবদান বলেই দাবি করেছে ওয়াসিমা।

Related Articles

Back to top button